ঢাকা, মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

শিরোনামঃ

পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা, ফেরির মাস্টার বরখাস্ত

পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা, ফেরির মাস্টার বরখাস্ত
স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথের রো রো ফেরি শাহ জালালের ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফেরি ‘শাহজালাল’-এর ইনচার্জ ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে মাধারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর পরই আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ‘মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-মাদারীপুরের বাংলাবাজার রুটে চলচলারত ‘ফেরি শাহজালাল’ সঠিকভাবে পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় উক্ত ফেরির ইনচার্জ ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার আব্দুর রহমানকে আজ সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
দুর্ঘটনা কবলিত ফেরিতে কয়েকশ যাত্রী ও অর্ধশতাধিক যানবাহন ছিল। তবে তাৎক্ষণিক ফেরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসায় বড় কোনো বিপদ হয়নি। পরে চালক নির্বিঘ্নেই শিমুলিয়াঘাটে এসে ফেরি নোঙর করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, সকালে বাংলাবাজার থেকে ঢাকামুখী কয়েকশ যাত্রী ও অর্ধশতাধিক যানবাহন নিয়ে রো রো শাহ জালাল ফেরিটি শিমুলিয়ায় আসছিল। পথে পদ্মা সেতুর পিলারের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করেই ফেরি বন্ধ হয়ে সজোরে সেতুর পিলারে গিয়ে ধাক্কা লাগে। এসময় যাত্রীদের কেউ মাথায়, কেউ পায়ে আঘাত পান। এতে কয়েকজনের মাথা ফেটে গেছে।
কয়েকজন যাত্রী জানান, চালকের কারণেই এই দুর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে। শতশত মানুষ ছিল। অনেকে আহত হয়েছেন। অনেক জোরে ধাক্কা লাগছে, ক্যান্টিনের গ্লাস, প্লেট, ফ্রিজ সব পড়ে ভেঙে গেছে। কেউ মাথায়, কেউ হাত-পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
ফেরি শাহজালালের চালক আব্দুল রহমান বলেন, ‘ফেরি ভালোভাবেই চলছিল। পদ্মা সেতুর সামনে আসার পর হঠাৎ ফেরির ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফেল করায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। এসময় নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পিলারে গিয়ে ধাক্কা লাগে। তাৎক্ষণিক ব্রেক উঠিয়ে আবারো ফেরি চালু করতে পারি এবং গন্তব্যে পৌঁছে ভালোভাবে নোঙর করেছি।’
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুর কাদের বলেন, ফেরির ধাক্কা লাগার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে পদ্মায় চলাচলকারী যেকোনো নৌযানের ধাক্কা সহ্য করতে পারে এমন নকশা করেই সেতুর পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সেতুতে প্রভাব পড়বে না। যদি সামান্য অংশ ভেঙে যায়, তাহলে সেগুলো সংস্কার করলেই হবে।