ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ১৫, ২০২১

শিরোনামঃ

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে ঢাবির ছাত্রত্ব হারাচ্ছে ৭ জন শিক্ষার্থী

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে ঢাবির ছাত্রত্ব হারাচ্ছে ৭ জন শিক্ষার্থী
স্টাফ রিপোর্টার : ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে অবৈধ পন্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাত শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদ।
 
একই অপরাধে আরও দুজনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে বলা হয়েছে।
 
এছাড়া পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ১৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিতে সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা পরিষদ। এদের মধ্যে তিনজন শিক্ষক এবং ১৪৭ জন শিক্ষার্থী।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।
 
প্রশ্ন ফাঁসের দুই চক্র ভাঙার দাবি সিআইডির 
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, “২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে সাত শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং দুইজনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
 
 
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মাকসুদুর রহমান (ফজলুল হক মুসলিম হল), আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের রিজন আহমেদ (কবি জসিম উদ্দিন হল), ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আয়েশা আক্তার তামান্না (বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল), ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শাহ মেহেদী হাসান (কবি জসিম উদ্দিন হল), ইতিহাস বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের মুহাইমিনুল ইসলাম (স্যার এ এফ রহমান হল), দর্শন বিভাগের ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল আলম (শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের মো. শাহেদ আহমেদ (অমর একুশে হল)।
 
ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির একটি চক্রকে ২০১৭ সালে ধরে ফেলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। 
 
পরে এই ঘটনায় সিআইডির দায়ের করা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ জন শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৮ জনকে এর আগে দুই দফায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাকিদের মধ্যে সাতজনকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং দুজনের বিরুদ্ধে কেন একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শানোর সুপারিশ এলো।
 
ভর্তি জালিয়াতিতে ঢাবির ৬৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
 
এদিকে ১৫০ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর শাস্তির বিষয়ে প্রক্টর জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য ১৪৭ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের কেউ ছয় মাস, কেউ এক বছর একাডেমিক প্রোমোশন পাবে না। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমির পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অসঙ্গতিপূর্ণ নম্বর দেওয়ার কারণে তিন শিক্ষককে তিন বছর পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ থেকে অব্যহতি দিতে সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা পরিষদ।
 
তিন শিক্ষক হলেন- সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এএসএম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক গোলাম আজম ও সহকারী অধ্যাপক মাইনউদ্দীন মোল্লা।