ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

শিরোনামঃ

একাদশ শ্রেণির বইয়ের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ল

একাদশ শ্রেণির বইয়ের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ল
স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষার্থীদের কাঁধে ভর করেই একাদশ শ্রেণির বই ছাপার সংকট দূর করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা। বইয়ের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে রবিবার ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এতে করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ১০ কোটি টাকা বই কিনতে বাড়তি খরচ হবে।
 
এ ব্যাপারে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা  বলেন, ‘একাদশ শ্রেণির বই ছাপার সমস্যা মিটমাট হয়েছে। বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটু দাম বাড়ানো হয়েছে। তা শিক্ষার্থীদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই আছে।’
 
এনসিটিবি সূত্র জানায়, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ৩০টি বইয়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্য, বাংলা সহপাঠ (উপন্যাস ও নাটক) ও ইংরেজি প্রথমপত্র (ইংলিশ ফর টুডে) বই প্রকাশক ও মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ছাপিয়ে বাজারজাত করা হয়। এনসিটিবির বই ছাপিয়ে বিক্রি করায় ঠিকাদারদের ১১ শতাংশ রয়্যালিটি (সম্মানী) দিতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। এবার কাগজসহ অন্যান্য কাচাঁমালের দাম বেড়ে যাওয়া প্রাক্কলিত দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় কেউ টেন্ডারের অংশ নেয়নি। বাধ্য হয়ে এনসিটিবির কর্মকর্তারা বইয়ের ১৫ শতাংশ দাম বাড়িয়ে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে নয় কোটি ৮৪ লাখ টাকা বাড়তি দাম বই কিনতে হবে শিক্ষার্থীদের। তবে এনসিটিবির সম্মানী কমানো হয়নি। সম্মানীর টাকা সরকারের কোষাগারে ও জমা দেওয়া হয় না। এনসিটিবির কর্মকর্তারা নিজেরা ভাগ করে নেন।
 
সূত্র আরও জানায়, ইংরেজি প্রথমপত্র বইয়ের দাম ৮১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৩ টাকা করা হয়েছে। ১১৩ টাকার বাংলা সাহিত্যের দাম ১৩০ টাকা। আর বাংলা সহপাঠ বই ৫৫ টাকা থেকে ৬৩ টাকা দাম ধরা হয়েছে। ২৪ লটে ২৪ লাখ বই ছাপানো হবে। প্রথম দফায় ১৭ লটে ১৯ লাখ ৮৯ হাজার বই ছাপানোর কার্যাদেশ গতকাল দেওয়া হয়েছে। 
 
কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দফায় ১৭টি লটের মোট ১৯ লাখ ৮৯ হাজার বই ছাপানো হবে। এতে ইংরেজি প্রথমপত্র ও বাংলা সাহিত্যে প্রতি লটে ৪০ হাজার ৫০০ এবং বাংলা সহপাঠ প্রতি লটে ৩৬ হাজার বই ছাপানো হবে। প্রথম দফায় বই বাজারে বিক্রি করার পর দ্বিতীয় দফায় বাকি কাজ করার সম্মতিপত্র দেওয়া হবে। তবে বই বিক্রি হয় না এসব নানা অভিযোগ তুলে প্রতি বছরই ঠিকাদাররা দ্বিতীয় দফায় বই ছাপায় না। 
 
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, গত ১৬ এপ্রিল একাদশ শ্রেণির বই ছাপার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। দরপত্র বিক্রি হয় ৮৭টি। ৩ মে দরপত্রের বাক্স খোলা হয়। বাক্সে একটি দরপত্র ও  না দেখে চমকে ওঠেন কর্মকর্তারা। এরপর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক দফা সমঝোতা বৈঠক করেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান। 
 
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, বইয়ের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো। সম্মানী ১১ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করার। এনসিটিবি ১২ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও রাজি হননি ব্যবসায়ীরা। ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারিত। এর আগে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে এনসিটিবি কর্মকর্তারা দিশেহারা হয়ে পরেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর বইয়ের বাড়তি দাম চাপিয়ে দিয়েছেন। 
 
মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন,‘এনসিটিবি গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৩৫ হাজার টাকা বেশি দামে কাগজ কিনে বই ছাপাচ্ছে। আর একাদশ শ্রেণির বই ছাপাতে গত বছরের প্রাক্কলিত দর ধরেছে। এটা দ্বৈত সিদ্ধান্ত। ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর খবর আমি জানি না। এই দাম বাড়ানো হলে আমার কাজ করবো।’ 
 
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল পর্যন্ত এনসিটিবি থেকে একাদশ শ্রেণির বই বাজারজাত করতো। এতে প্রতি বছর লোকসানের কারণে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে অফারিং পদ্ধতিতে ১৭ জন প্রকাশকের মাধ্যমে বাজারজাত শুরু করে। ২০১৬ সালে প্রকাশকদের ছাপে ১৫ শতাংশ দাম বাড়ায়। এবার কোনো প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ না নেওয়ায় ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হলো।