ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২০

শিরোনামঃ

size-218*80

size-218*80

size-218*80

শিক্ষা প্রশাসনের ৩০ কর্মকর্তার বদলির স্থলে যোগ দিয়েছেন মাত্র একজন

শিক্ষা প্রশাসনের ৩০ কর্মকর্তার বদলির স্থলে যোগ দিয়েছেন মাত্র একজন

স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান থমকে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দফা বদলি হওয়া ৩০ জন নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেয়ার এ অভিযান শুরুতে হোঁচট খেয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন। অভিযুক্তরা নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় তালিকায় থাকা অভিযুক্তদের বদলি করা যাচ্ছে না। এদিকে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে বদলির হওয়া ৩০ জনের মধ্যে মাত্র একজন নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। বাকিরা পদ আঁকড়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বদলির ১২ দিন পরও তারা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।

বদলি হওয়া ৩০ জনের মধ্যে এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আব্দুল মজিদ নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেয়ার জন্য তাদের পদে কাউকে পদায়ন না করাকে কারণ দেখাচ্ছেন কর্মকর্তারা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এ ২৯ জনের মধ্যে মাউশির উপপরিচালক (প্রশাসন) পদ ছাড়া বাকি পদগুলো শূন্য থাকলে কোনো সমস্যা নেই। এগুলো রুটিন ওয়ার্ক যে কেউ করতে পারেন। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে যতদিন সম্ভব বদলি আটকে রাখার কৌশল নিয়েছেন। বদলির আদেশ উপেক্ষা করার বিষয়ে কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের কাছে।

গতকাল দুপুরে মাউশিতে গিয়ে বদলি হওয়া একাধিক কর্মকর্তাকে কাজ করতে দেখা গেছে। এরমধ্যে মাউশির কলেজ-২ এর দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক মেজবাহ উদ্দিনকে মাদারীপুরের বরহামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার রুমে দেখা মিলল। রুমের বাইরে এখনও তার নামফলকে মেজবাহ উদ্দিন লেখা রয়েছে। বদলির ১২ দিন পরও নতুন কর্মস্থলে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যাব তবে আমার স্থলে কোনো কর্মকর্তা এখনও আসেনি। ফলে আমাকে দাপ্তরিক কাজগুলো করতে হচ্ছে। বদলি হওয়ার পরও কত দিন নাগাদ এ দায়িত্ব পালন করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মেজবাহ বলেন, যতদিন আমার চেয়ারে কেউ না আসে তত দিন হয়তো থাকব। কারণ কেউ আসলে তাকে তো কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে। কর্মকর্তারা বলেন, এটা তো স্ট্যান্ড রিলিজ নয়।  আমরা যখন মনে করবো তখন যাবো।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব এজেডএম নূরুল হক বলেন, নতুন কর্মকর্তাদের পদায়নের কাজ চলছে। শিগগিরই নতুন কর্মকর্তারা এসব পদে যোগ দেবেন। তারা আসলেই বদলি হওয়ার বাকি নতুন কর্মস্থলে চলে যাবেন। বদলিকৃতদের কতজন নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন- এমন প্রশ্নে নুরুল হক বলেন, এখনও সবাই যোগদান করেননি। হয়তো করছেন ধীরে ধীরে। অনেকে করেছেন, অনেকে করেননি। তবে আমি যতদূর জানি বেশিভাগই করেননি। হয়তো খুব কম সময়ের মধ্যে করবেন। আর ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের প্রভাবশালী সাতজনের মধ্যে কেউ নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। এদিকে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকানো, পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন, ফল প্রকাশসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে শিক্ষাবোর্ডগুলো। আর সব বোর্ডের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। কিন্তু এ বোর্ডের চেয়ারম্যান পদটি দুই মাস ধরে শূন্য। একজন জুনিয়র কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়ায় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। সিলেট ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান পদটিও শূন্য। এই দুই বোর্ডেও জুনিয়রদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, তিনটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয় প্রধানমন্ত্রী থেকে। চূড়ান্ত হয়ে ফাইল ফেরত আসলে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হবে।

size-218*80

size-218*80

size-218*80

size-218*80