ঢাকা, মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

শিরোনামঃ

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করার উদ্যোগ

ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করার উদ্যোগ
স্টাফ রিপোর্টার : নানা কারণে মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পরা শিক্ষার্থীদের আর বেকার থাকতে হবে না। এসব শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ। প্রশিক্ষণ শেষে সরকারিভাবে ঋণ দেওয়ারও চিন্তাভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনে বিদেশে কর্মসংস্থানের সহযোগিতা করা হবে। 
 
জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও কারিগরি অধিদফতরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাস  বলেন, ‘সরকারি কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বেকার ও ঝরেপড়া বিপুল জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করতে একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের অনেক মেশিনারি আছে। ঝরেপড়া দক্ষ ও অদক্ষ  জনবলকে কর্মক্ষম করতে এসব মেশিনারি দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে তারা দেশের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হয়। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মাধ্যমিক স্তরে ঝরেপড়া সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থীকে কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা পাস করার পরও নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়নি এসব শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষে কেউ দেশের বাইরে যেতে চায় সেক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ দেবে সরকার।
 
এ ছাড়া এসব শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবে সরকার। এসব আয়োজন করতে একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।
 
বিষয়টি স্বীকার করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী বলেন, ‘এসএসসি পাস করেনি তবে লেখাপড়াও করছে না এমন শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’ তবে বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত। এর মধ্যে আবার ছাত্রছাত্রী কতজন। তাদের কার কি ধরনের প্রশিক্ষণের চাহিদা রয়েছে। কোথায়, কত মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এসব বিষয় নিয়ে কনসেপ্ট পেপার তৈরির কাজ চলছে।’ 
 
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছর ডিসেম্বর মাসে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জেএসসি ও জেডিসি পাস করার পরও নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়নি তাদের চালিকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) কাছে তথ্য চেয়ে চিঠিও দেয়। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, চার লাখ ৫৬ হাজার ৩১১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে জেএসসিতে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৮১৬ জন এবং জেডিজিতে ৬৮ হাজার ৪৮৫ জন। 
 
জানা গেছে, ২০১৪ সালে জেএসসিতে ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৯৭৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৭ জন, আর জেসিডিতে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৯২ জন পাস করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয় দুই লাখ ৯০ হাজার ৮২৫ জন। ২০১৫ সালে জেএসসিতে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০৬ জন পাস করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয় ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৫ জন। আর জেসিডিতে তিন লাখ ৩১ হাজার পাস করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয় তিন লাখ ১৬ হাজার ৯১৬ জন। আর ২০১৬ সালে জেএসসিতে ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৩১১ জন পাস করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয় ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬৫ জন। আর জেডিসিতে তিন লাখ ৫০ হাজার ৩৪৮ জন পাস করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয় তিন লাখ ৩২ হাজার ৭৬ জন। এই তিন বছরের জেএসসি ও জেডিসিতে মোট চার লাখ ৫৬ হাজার ৩১১ জন শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়নি। এসব শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে চায় সরকার।